ল্যাটিন আর্টেরিয়া থেকে এসেছে আর্টারি শব্দটি। এটি এমন এক ধরনের নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক নালী যার পেশীবহুল প্রাচীর আছে এবং এই নালী সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারাদেহে রক্ত সরবরাহ করে। ধমনী অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান শরীরের কোষ, টিস্যু ও অঙ্গে সরবরাহ করে।
ধমনীর প্রাচীর ৩টি স্তর নিয়ে গঠিত -
- ভেতরের স্তরকে বলে ইন্টিমা- মধ্যবর্তী স্তরকে বলে মিডিয়া (এটি পেশীর এমন একটি স্তর যা হৃদপিণ্ড থেকে আসা উচ্চচাপকে নিয়ন্ত্রণ করে)
- অ্যাডভেন্টেশিয়া হচ্ছে এমন এক ধরনের সংযোগ কলা যা ধমনীর কাছাকাছি টিস্যুর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে।
স্বাভাবিক ধমনী নতুন একটি রাবার ব্যান্ডের মতোই – নমনীয়, শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক হয় যার মধ্য দিয়ে সহজে রক্ত চলাচল করতে পারে। যদিও কিছু সমস্যার কারণে ধমনী সরু হয়ে যেতে পারে এবং রক্ত প্রবাহে অনেক বেশি বাঁধার সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের সমস্যাকে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বলে। ধমনীর দেয়ালের ভেতরের প্রাচীরে প্লাক জমা হলে ধমনী সরু ও শক্ত হয়ে যায়। এই রোগে সারা শরীরে স্বাভাবিক রক্ত চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি হয় বলে মারাত্মক ধরনের কার্ডিওভাস্কুলার সমস্যা তৈরি হয়। অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বা আর্টেরিওস্ক্লেরোটিক ভাস্কুলার ডিজিজ মারাত্মক একটি রোগ কারণ এটি সহজে শনাক্ত করা যায় না এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এর প্রকোপ। নীরব ঘাতক এই রোগের কারণে আমেরিকায় প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি লোক মারা যায়।
উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, হাইপারটেনশন, অস্বাস্থ্যকর খাবার, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ইত্যাদি কারণে ধমনীর এন্ডোথেলিয়াম ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সময়ের সাথে সাথে কোলেস্টেরল, ক্যালসিয়াম এবং অন্য উপাদান ধমনীর দেয়ালে জমা হতে থাকে, একে প্লাক বলে। এই প্লাক বেশি জমা হলে ধমনীকে আবদ্ধ করে দেয় বলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও অন্যান্য কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ সৃষ্টি করে।
কিন্তু ভয় পাবেন না, কারণ এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো ধমনীকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সারাদেহে ভালোভাবে প্রবাহিত হতে সাহায্য করে। চলুন তাহলে জেনে নিই এমন কিছু সুপারফুডের কথা।
১। কাঠবাদাম
খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরলের (HDL) মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করার মাধ্যমে কাঠবাদাম ধমনীতে প্লাক জমা হতে দেয়না। কাঠবাদামের পলিস্যাচুরেটেড ও মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ম্যাগনেসিয়াম ধমনীতে প্লাক জমার ঝুঁকি কমায়। প্রতি সপ্তাহে ৩-৫ সারভিং কাঠবাদাম খাওয়া ভালো। এক সারভিং বলতে একমুঠো বাদামকে বুঝানো হয়েছে। সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য ভেজানো বা রোস্ট করা কাঠবাদাম খাওয়া ভালো।
২। ব্রোকলি
ব্রোকলিতে সালফোরাফেন থাকে যা ধমনীতে প্লাক জমাকে প্রতিহত করে। এতে ভিটামিন কে থাকে যা ক্যালসিয়ামকে ধমনীর ক্ষতি করা থেকে বিরত রাখে। এছাড়াও ব্রোকলিতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে বলে কোলেস্টেরলের মাত্রা ও উচ্চরক্তচাপ কমতে সাহায্য করে। প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার ব্রোকলি গ্রহণ করুন এবং এর একবারে ১/২ কাপ কাঁচা ব্রোকলি গ্রহণ করার চেষ্টা করুন। গ্রিল, রোস্ট বা ভাপে সিদ্ধ করেও খেতে পারেন ব্রোকলি।
৩। রসুন
সবচেয়ে বড় ধমনীকে অ্যাওর্টা বা মহাধমনী বলে যা হৃদপিণ্ড থেকে সারা শরীরে রক্ত সরবরাহ করে ছোট ছোট ধমনীর (আর্টেরিওলস এবং ক্যাপিলারিস বলে) মাধ্যমে। রসুন অ্যাওর্টা শক্ত হতে বাঁধা দেয় এবং ধমনীকে পরিষ্কার করে। তাই ধমনীর ব্লক হয়ে যাওয়া প্রতিরোধের জন্য আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রসুন যোগ করুন এবং কার্ডিওভাস্কুলার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটান।
এছাড়াও হলুদ, তরমুজ, ডালিম, অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডো, দারুচিনি,কমলার রস ও স্যামন মাছ গ্রহণ করুন ধমনীকে পরিষ্কার রাখার জন্য।
সূত্র : ডায়েট অফ লাইফ ও ডিআইওয়াই রেমেডিস

No comments:
Post a Comment