১। কাটা এবং পোড়ার দাগ দূর করতে সাহায্য করে
শরীরের কোন স্থানে কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে এর ফলে যে দাগের সৃষ্টি হয় তা দূর করতে সাহায্য করে কর্পূর।
সামান্য পরিমাণে কর্পূর পানিতে মিশিয়ে দাগের উপর লাগান। প্রতিদিন ১ বার
এভাবে লাগালে পোড়ার দাগ দূর হবে। মনে রাখবেন সদ্য কেটে যাওয়া বা পোড়া
স্থানে এটি লাগাবেন না। কারণ এর ফলে ত্বকে ইনফ্লামেশন বা যন্ত্রণা হতে
পারে।
২। গোড়ালির যত্নে
ফেটে যাওয়া ও অমসৃণ গোড়ালিকে নরম করতে সাহায্য করে
কর্পূর। এর জন্য কর্পূর মেশানো পানিতে কয়েক মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন এবং
স্ক্রাব করে নিন। এরপর পা ধুয়ে নিন। পায়ের পাতাকে আদ্র ও নরম রাখার জন্য
ভালো কোন কোল্ড ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করুন।
৩। পেশীর ব্যথা দূর করে
পেশীর ব্যথা ও যন্ত্রণা দূর করার জন্য কর্পূর ভালোভাবে
কাজ করে। কর্পূরের শীতল করার উপাদান আছে বলে এটি পেশীকে শান্ত করতে এবং
শরীরের অন্যান্য যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে। পিঠে ব্যথা ও দাঁতে ব্যথা
কমাতে পারেন কর্পূর দ্বারা।
৪। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুনাগুণ
কর্পূরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে বলে তা শরীরের
ফ্রি র্যাডিকেল কমতে সাহায্য করে। ফ্রি র্যাডিকেল শরীরের শান্তি নষ্ট করে
এবং কোষ ও টিস্যুর ক্ষতি করে। সমস্যা সৃষ্টিকারী ফ্রি র্যাডিকেলকে দূর
করে ডায়াবেটিস, কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ এবং ক্যান্সার থেকে মুক্ত থাকতে
সাহায্য করে কর্পূর।
৫। বিভিন্ন রোগকে দূরে রাখে কর্পূরের তেল ব্যবহার
কর্পূরের তেলের অ্যান্টিইনফ্লামেটরি গুণ আছে। এটি
উত্তেজনা প্রশমনকারী বলে স্নায়ুকে শান্ত হতে সাহায্য করে। এটি যেকোন পোকার
কামড়ের সংক্রমণ এবং অন্য যেকোন সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে। খিঁচুনির
সমস্যা আছে যাদের তাদের জন্য উপকারী, কারণ এর সংকোচন রোধী গুণ আছে।
৬। চুলের যত্নে
শুধু ত্বকের সমস্যা সমাধানেই নয় চুলের যত্নেও কর্পূর
অনেক কার্যকরী। অন্য ভেষজ বা এসেনশিয়াল অয়েলের সাথে কর্পূরের তেল মিশিয়ে
ব্যবহার করলে চুলের বৃদ্ধি হয়, মন শান্ত হয় এবং স্ট্রেস কমে। কর্পূরের
তেলের সাথে ডিম বা দই মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন চুলে।
৭। চুল পড়া রোধ করে
কর্পূর চুল পড়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। এর জন্য নিয়মিত মাথায় কর্পূরের তেল ম্যাসাজ করে লাগান।
৮। ত্বকের চুলকানি ও যন্ত্রণা দূর করতে সাহায্য করে
স্নায়ুর প্রান্তকে উদ্দীপিত করতে পারে কর্পূর। তাই
ত্বকের চুলকানি ও যন্ত্রণার স্থানে কর্পূর লাগালে শান্তির অনুভূতি পাওয়া
যায়। শুধু চুলকানি বা যন্ত্রনাই দূর করেনা ত্বকের লালভাব দূর করতেও সাহায্য
করে কর্পূর।
৯। ব্রণ নিরাময়ে সাহায্য করে
কর্পূরের চমৎকার নিরাময় গুণের কারণেই এটি ব্রণ নিরাময়েও
অনেক কার্যকরী। কারণ এর অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি গুণ আছে। কর্পূরের তেল ত্বকে
ব্যবহার করলে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমে। সতর্কতা : ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এই রাসায়নিক যৌগটি ব্যবহারের আগে আপনি এর প্রতি অ্যালারজিক নন সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন। তাই এটি ব্যবহারের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিতে পারেন। এই রাসায়নিক যৌগটি সরাসরি ফাটা বা উন্মুক্ত ত্বকে ব্যবহার করবেন না। কারণ এর ফলে এটি শরীরে প্রবেশ করে বিষাক্ততার সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র : বিউটি হেলথ টিপস

No comments:
Post a Comment