
বাংলাদেশ থেকে
ইতালিতে প্রতি
এমবিপিএস-এর
মূল্য
৯.৫২ টাকা নির্ধারণ করে
ব্যান্ডউইথ পাঠানোর বিষয়ে
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে
সরকার। সম্প্রতি ডেইলি
স্টারের এক
প্রতিবেদনে এমনটা
জানানো
হয়েছে। এই
মূল্য
বাংলাদেশের নিজস্ব
মার্কেটে বিক্রি
হওয়া
ব্যান্ডউইথের চেয়ে
৬৫.৬ শতাংশ কম। তবে
ব্যান্ডউইথ রপ্তানীর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন
দেশের
ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া
ঐ
প্রতিবেদনে বলা
হয়েছে,
বাংলাদেশের কোন
প্রতিষ্ঠানকে কোন
প্রস্তাব বা
টেন্ডার ছাড়াই
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল
কোম্পানিকে (বিএসসিসিএল) ১৫
বছরে
৫৭
গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ ইতালিতে পাঠানোর জন্য
সিদ্ধান্ত দেয়া
হয়েছে।
এজন্য
ইতালির
স্পার্কেলস নামের
একটি
প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে
৯.৭৭ কোটি টাকার
চুক্তি
হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, বিডিনগ
বোর্ড
অফ
ট্রাস্টির চেয়ারম্যান এবং
ফাইবার
অ্যাট
হোম
এর
চিফ
স্ট্রাটেজিক অফিসার
সুমন
আহমেদ
সাবির
এ
ব্যাপারে ঐ
সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন,
এটি
অবিশ্বাস্য মূল্য।
এই
মূল্যে
ব্যান্ডউইথ দেশের
বাইরে
বিক্রি
করতে
হবে
কেন?
আমরা
সব
সময়
প্রস্তুত এই
মূল্যে
ব্যান্ডউইথ কেনার
জন্য।
বিএসসিসিএল যদি
সুযোগ
দেয়
তাহলে
আমরা
এই
ব্যান্ডউইথ দিয়ে
উচ্চ
গতির
ইন্টারনেট অফার
করতে
পারি।’
তিনি
বিস্ময়
প্রকাশ
করে
বলেন,
‘আমাদের
প্রতিবেশি দেশে
১০
জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যাচ্ছে
৯.৩৬ কোটি টাকা
প্রতি
বছরের
জন্য,
সেখানে
ইতালিতে ৫৭
জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যাচ্ছে
১৫
বছরের
জন্য
মাত্র
৯.৭৭ কোটি টাকায়!’
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার
বলেন,
‘বিদেশে
এক্সপোর্ট করার
নামে
আমরা
আমাদের
ব্যান্ডউইথ ফ্রি
দিয়ে
দিতে
পারি
না।
বরং
এটা
আমাদের
শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে দিতে
পারি।
যার
মাধ্যমে সরাসরি
আমাদের
দেশের
মানুষ
উপকার
পেতে
পারে।
তিনি
বলেন,
বাংলাদেশে এই
মুহূর্তে ২০০
জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের মধ্যে
মাত্র
৩৩
জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল
কোম্পানি থেকে।
অথচ
বাংলাদেশের চাহিদা
অনুযায়ী দেশের
৬টি
প্রতিষ্ঠান ভারত
থেকে
উচ্চমূল্যে ব্যান্ডউইথ কিনছে।
নভোকম
লিমিটেডের প্রধান
মার্কেটিং অফিসার
মো.
হাসিবুর রশিদ
দেশে
অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথ বিক্রি
করার
জন্য
ওপেন
টেন্ডার করার
পরামর্শ দেন।
তবে
এ
ব্যাপারে জানতে
ডাক
ও
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তারানা
হালিমের সাথে
যোগাযোগ করা
হলে
তিনি
ডেইলি
স্টারকে বলেন,
‘এ
ব্যাপারে আমার
কোন
কিছু
জানা
নেই।’
বিএসসিসিএল সূত্রের বরাতে
প্রতিবেদনে বলা
হয়,
একটি
সাবমেরিন ক্যাবল
স্থায়ী
হয়
২০
থেকে
২৫
বছর।
বাংলাদেশের এ
ক্যাবলটির যাত্রা
শুরু
হয়
২০০৬
সাল
থেকে।
এ
হিসেবে
ইতালির
প্রতিষ্ঠানটি সাবমেরিন ক্যাবলটি ব্যবহার করতে
পারবে
১১
থেকে
১৬
বছর।
বিএসসিএল জানিয়েছে, এ
জন্য
প্রতিবছর ক্যাবল
রক্ষণাবেক্ষণের জন্য
ইতালির
স্পার্কেলস খরচ
দেবে।
বিএসসিসিএল আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল
কনসোর্টিয়াম সিমিউয়ি-৪
এর
সদস্য।
ক্যাবলটির সংযোগ
ফ্রান্স থেকে
সিঙ্গাপুর পর্যন্ত। এ
কারণে
যে
কোন
কোম্পানির পক্ষে
এ
রুটে
ক্যাবল
সংযোগ
নেয়া
সহজ।
এরই
ভিত্তিতে ইতালির
প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্যাবল
নিতে
আগ্রহ
প্রকাশ
করে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার নির্দেশনার পরপরই
ব্যান্ডউইথের দাম
কমানোর
ঘোষণা
দিয়
বিএসসিসিএল। প্রতি
এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের মূল্য
১
হাজার
৬৮
থাকা
থেকে
কমিয়ে
নির্ধারণ করা
হয়েছে
৬২৫
টাকা।
অংকের
হিসাবে
এটি
৪১
শতাংশ
কমানো
হয়েছে। তবে
এই
কমানো
মূল্যের কোন
সুফলই
পাচ্ছে
না
সাধারণ
গ্রাহক। এসব
কিছু
সমাধান
না
করেই
হঠাৎ
৬৫.৬ শতাংশ কম
মূল্যে
ইতালিতে ব্যান্ডউইথ পাঠানোকে ভালো
চোখে
দেখছেন
না
দেশের
সাধারণ
মানুষ।
বাংলাদেশের নিজস্ব
মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন,
বাংলাদেশে উচ্চ
মূল্যে
ব্যান্ডউইথ বিক্রি
করা
হলেও
তুলনা
মূলক
অনেক
কম
দামে
ব্যান্ডউইথ বিক্রি
করার
বিষয়টি
কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ
ব্যাপারে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা (বিএসসিসিএল) পরিচালক মনোয়ার হোসেন
জানিয়েছেন, এটা
দেখতে
লস
মনে
হলেও
আসলে
আমাদের
ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে
না।
কিন্তু
আমরা
যদি
ইতালির
কাছে
বিক্রি
করি
তাহলে
কিছু
হলেও
তো
লাভ
হবে।
তিনি
আরও
বলেন,
যে
মূল্য
নির্ধারণ করা
হয়েছে
তা
আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডারে করা
হয়েছে।
তিনি
আরও
জানিয়েছেন, আমরা
ভারত
ও
ইতালির
পর
নেপাল
ও
ভুটানেও ব্যান্ডউইথ বিক্রি
করবো।
এছাড়া
শিগগির
জাপানের নিপ্পন
টেলিগ্রাফ এবং
ভারতের
ভারতীয়
এয়ারটেল আমাদের
থেকে
ব্যান্ডউইথ নেবে।
সূত্র: ডেইলি স্টার
No comments:
Post a Comment